‘কোর্ট থেকে লাথি মেরে চিফ জাস্টিসকে বের করে দিয়েছিলো’

প্রকাশিত: ৬:১৭ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৭, ২০২৪

‘কোর্ট থেকে লাথি মেরে চিফ জাস্টিসকে বের করে দিয়েছিলো’

বাংলা সিলেট ডেস্ক: কোর্টে এসে লাথি মেরে এক চিফ জাস্টিসকে বের করে দিয়েছিলো গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন। এটা কি তাদের কাজ? ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলার শুনানিতে এমন প্রশ্ন তুলেছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) বিকেলে ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলার চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক শুনানিতে এমন বিস্ফোরক মন্তব্য করেন বিচারপতি মোস্তফা জামার ইসলামের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ।

ব্রিগেডিয়ার (জেনারেল অব) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরীর পক্ষে যখন যুক্তিতর্ক তুলে ধরছিলেন তার আইনজীবী তখন হাইকোর্ট বলেন, ডিজিএফআই এসব কি করে। এটা কি ধরনের কাজ। আগামীকাল চূড়ান্ত যুক্তি তর্ক শেষ করে সময় পেলে রায় দেয়া হবে বলেও মন্তব্য করেন হাইকোর্ট।

বহুল আলোচিত চট্টগ্রামে ১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালানের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি নাসরিন আক্তারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এই যুক্তিতর্ক উপস্থাপন চলছে।

এর আগে গত ৬ নভেম্বর চট্টগ্রামে ১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালানের ঘটনায় করা মামলায় আসামিদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) ও আপিলের ওপর শুনানি শুরু হয়। সেদিন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ কয়েকজন আসামির পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান। সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাবরের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শিশির মনির।

২০০৪ সালের ১ এপ্রিল সিইউএফএল ঘাট থেকে আটক করা হয় ১০ ট্রাক ভর্তি অস্ত্রের চালান। এ নিয়ে কর্ণফুলী থানায় অস্ত্র আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে চোরাচালানের অভিযোগ এনে দুটি মামলা হয়। মামলায় ২০১৪ সালের ৩০ জানুয়ারি চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালত এবং বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ রায় দেন। এর মধ্যে অস্ত্র চোরাচালান মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ে সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামী (অন্য মামলায় ফাঁসি কার্যকর), সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুত্ফুজ্জামান বাবর, ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফার সামরিক কমান্ডার পরেশ বড়ুয়া এবং দুটি গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ১৪ জনকে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়। অস্ত্র আইনে করা অন্য মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ হয় একই আসামিদের।

বিচারিক আদালতের রায়ের পর ২০১৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি রায়সহ মামলার নথিপত্র হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখায় পৌঁছে, যা ডেথ রেফারেন্স মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়। অন্যদিকে কারাগারে থাকা দণ্ডিত আসামিরা সাজার রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালে হাইকোর্টে পৃথক আপিল করেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ